গায়েব হয়ে যাওয়া সাক্ষী

কলকাতার একটি আদালতে চলছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ হত্যা মামলার বিচার। আসামী ছিলেন একজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, অরুণ মালিক, যিনি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। এই মামলার একমাত্র সাক্ষী ছিলো সঞ্জয় রায়, অরুণের পুরনো সহকর্মী, যিনি হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।

মামলার শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই হঠাৎ একদিন সঞ্জয় রায় নিখোঁজ হয়ে যান। তার ফোন বন্ধ ছিল, এবং তার বাড়ির বাইরে কোনো সাইনও পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা অরিন্দম রায় কেসটি হাতে নেন। প্রথমে তিনি সঞ্জয়ের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন, তবে কেউই সঠিক তথ্য দিতে পারেনি।

অরিন্দম মনে করেন, সঞ্জয়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কিছু গভীর ষড়যন্ত্র কাজ করছে। তিনি সঞ্জয়ের পুরনো রেকর্ড খুঁটিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন যে, সঞ্জয় আগে কখনোও এমন আচরণ করেননি। তার পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জয় অত্যন্ত সতর্ক এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন।

অরিন্দম সঞ্জয়ের শেষ সময়ের কার্যকলাপ অনুসন্ধান করতে গিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পান। সঞ্জয় একটি গুপ্ত চিঠি পেয়েছিলেন, যা তাকে বলেছিল—“তোমার সাক্ষ্য শুধুমাত্র তোমার জীবন বাঁচাবে না, বরং পুরো দেশের ভাগ্যও নির্ভর করবে। সাবধান!”

এই চিঠি থেকে অরিন্দম বুঝতে পারেন, সঞ্জয়ের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কোনো আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। তদন্তের এক পর্যায়ে অরিন্দম জানতে পারেন, সঞ্জয়কে অপহরণ করেছে একটি আন্তর্জাতিক গুপ্তচর সংস্থা, যারা অরুণ মালিকের ব্যবসায়িক বিপ্লবের পেছনে কাজ করছে।

অরিন্দম কঠোর অনুসন্ধান চালিয়ে সঞ্জয়কে উদ্ধার করেন, এবং তার কাছ থেকে জানা যায় যে, অরুণ মালিকের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল।

অরিন্দমের তদন্তের ফলস্বরূপ, অরুণ মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়, এবং তার সমস্ত অপরাধের শিকল ভেঙে যায়। তবে সঞ্জয়ের উপর যে চাপ সৃষ্টি হয়েছিল তা তার জীবনকে চিরকাল পরিবর্তিত করে দিয়েছিল।