শীতের এক গভীর রাত। হাওড়া থেকে দিল্লিগামী বিলাসবহুল এক্সপ্রেস ট্রেন “নাইট স্টার” সুনসান ট্র্যাকে ছুটে চলেছে। ট্রেনের প্রথম শ্রেণির একটি বগিতে ছিলেন বিভিন্ন যাত্রী—একজন নামকরা ব্যবসায়ী রণবীর সেন, তার স্ত্রী মধুশ্রী, তরুণ লেখক রোহিত মেহরা, বৃদ্ধ দম্পতি গোস্বামী এবং এক অচেনা যাত্রী, যার পরিচয় কেউ জানত না।
রাত প্রায় ১টা। আচমকা এক চিৎকার শোনা যায়। যাত্রীরা ছুটে গিয়ে দেখে, রণবীর সেন তার কেবিনে মৃত পড়ে আছেন। তার বুকে ছুরির গভীর আঘাত। পুরো ট্রেন আতঙ্কে কাঁপতে থাকে। কন্ট্রোল রুমে খবর পাঠানো হয়, এবং ট্রেনের পরের স্টেশনে গোয়েন্দা অরিন্দম রায়কে কেসটি সমাধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
অরিন্দম ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। রণবীরের কেবিনটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, এবং জানালাগুলি বন্ধ ছিল। দেখে মনে হয় এটি একটি “লকড রুম মিস্ট্রি”।
প্রথমেই তিনি যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মধুশ্রী জানান, তার স্বামী সম্প্রতি একটি ব্যবসায়িক চুক্তি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রোহিত বলেন, তিনি হত্যার সময় তার নিজের কেবিনে বই লিখছিলেন। বৃদ্ধ দম্পতি বলেন, তারা ঘুমাচ্ছিলেন। অচেনা যাত্রীটি নিজের পরিচয় দিতে চায়নি।
অরিন্দম কেবিনের ভেতরে খুঁজতে গিয়ে একটি চমকপ্রদ জিনিস পান—রণবীরের হাতে লেখা একটি ছোট নোট: “বিশ্বাসঘাতকতা কাছের মানুষের কাছ থেকে আসে।”
তদন্ত আরও গভীরে গিয়ে অরিন্দম আবিষ্কার করেন, রণবীরের স্ত্রী মধুশ্রী আসলে রণবীরকে হত্যা করেছেন। তিনি আর অচেনা যাত্রীটি গোপনে সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। রণবীর বিষয়টি জেনে যাওয়ায় তারা মিলে তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
অরিন্দম মধুশ্রী ও সেই অচেনা যাত্রীকে গ্রেপ্তার করেন। সত্য উদ্ঘাটিত হলেও, রাতের সেই রেলগাড়ি যাত্রীদের মনে এক গভীর ভয় আর রহস্যের স্মৃতি রেখে যায়।
