গোপন মিটিং রুমের রহস্য

কলকাতার অন্যতম বৃহৎ কর্পোরেট কোম্পানি “ইনফিনিট কর্প”-এর বিলাসবহুল হেডকোয়ার্টারের একটি মিটিং রুমে এক সকালে পাওয়া গেল কোম্পানির পরিচালক অরিন্দম দত্তর মৃতদেহ। লাশের চারপাশে কোনো প্রমাণ নেই। মিটিং রুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল, এবং সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি ঠিক ঘটনাটির আগে অকার্যকর হয়ে যায়।

কেসটি হাতে নিলেন গোয়েন্দা অদ্বৈত রায়। তদন্ত শুরু করে তিনি জানতে পারলেন, অরিন্দম দত্ত সম্প্রতি একটি বড় চুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন, যা কোম্পানির জন্য অত্যন্ত লাভজনক হতে পারত। কিন্তু চুক্তি নিয়ে ভেতরে একটি দ্বন্দ্ব চলছিল। কোম্পানির বোর্ড মেম্বারদের মধ্যেও অনেকের সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না।

অদ্বৈত প্রথমে বোর্ড মেম্বারদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। অধিকাংশই অরিন্দমের কাজের ধরণকে কঠোর বলে উল্লেখ করেন। একজন মেম্বার, দেবরাজ মিত্র, জানান যে অরিন্দম সম্প্রতি চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি খুঁজে পাচ্ছিলেন না, এবং সেগুলি চুরি হয়ে যেতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন।

মিটিং রুমে খুঁটিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে অদ্বৈত একটি খাতার পাতায় রক্তের দাগ খুঁজে পান। খাতাটি অরিন্দমের ব্যক্তিগত ছিল এবং তার মধ্যে লেখা ছিল: “সন্দেহ করো সবচেয়ে কাছের লোককে।”

তদন্তের গভীরে গিয়ে অদ্বৈত জানতে পারলেন, অরিন্দমের সহকারী রিয়া সেন, যিনি তার সব গোপন তথ্য জানতেন, চুক্তির নথিগুলি চুরি করেছেন এবং গোপনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিকে বিক্রি করেছেন। অরিন্দম বিষয়টি বুঝতে পেরে তাকে মিটিং রুমে মুখোমুখি প্রশ্ন করতে যান। রিয়া আত্মরক্ষার নামে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন এবং সেখানেই তাকে হত্যা করেন।

তদন্তের সমস্ত প্রমাণ রিয়ার বিরুদ্ধে পাওয়া গেল। তাকে গ্রেপ্তার করা হলো। কোম্পানির চুক্তি নিয়ে যে ষড়যন্ত্র হয়েছিল, তা রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও, অরিন্দমের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোম্পানির ইতিহাসে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেল।