অতীতের অভিশাপ

শান্তিপুর গ্রামের প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পুরনো বাড়ি “রায় ম্যানশন”। বছরের পর বছর ধরে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কিন্তু সম্প্রতি, কলকাতার ধনী ব্যবসায়ী দেবাংশু রায় এই বাড়িটি কিনে সংস্কারের কাজ শুরু করেন। তবে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ির শ্রমিকদের মধ্যে অদ্ভুত ঘটনাগুলি ঘটতে থাকে। কেউ আহত হয়, কেউ অদৃশ্যভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়।

ঘটনার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় যখন দেবাংশুর ভাতিজা রোহিত রায়, যিনি বাড়ির কাজ তদারকি করছিলেন, তার শোবার ঘরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে ছিল গভীর ক্ষতের দাগ, যেন কেউ ধারালো কিছু দিয়ে আঘাত করেছে।

কেসটি হাতে নেন বিখ্যাত গোয়েন্দা অনিরুদ্ধ মুখার্জি। প্রথমেই তিনি বাড়ির ইতিহাস খুঁজতে শুরু করেন। স্থানীয় লোকজন জানান, এই বাড়িটি আগে জমিদার হরিনাথ রায়ের ছিল, যিনি তার দাস-দাসীদের ওপর অত্যন্ত নির্দয় ছিলেন। এক রাতে তার এক বিশ্বস্ত দাসী করুণা তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলে হরিনাথ তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। করুণা মারা যাওয়ার আগে তাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন—“এই বাড়ির যেকোনো মালিককে আমার মতোই কষ্ট পেতে হবে।”

অনিরুদ্ধ করুণা হত্যার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং বাড়ির বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করেন। তিনি একটি পুরনো ঘর খুঁজে পান, যেখানে করুণা বন্দী অবস্থায় মারা গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি ক্ষয়প্রাপ্ত কঙ্কাল এবং রক্তমাখা ছুরি আবিষ্কার করেন।

অনিরুদ্ধ বিষয়টি যুক্তিবাদী দৃষ্টিতে বিচার করতে চাইলেও, রাতের বেলায় বাড়ির পরিবেশ তাকে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়। প্রতিদিন রাতে করুণা নামের কেউ যেন ফিসফিসিয়ে কথা বলে। তদন্ত করতে গিয়ে তিনি আরও আবিষ্কার করেন, রোহিত রায়ের মৃত্যুতে অন্য কোনো মানুষের হাত নেই, বরং এটি একটি অদ্ভুত অতিপ্রাকৃত ঘটনা।

অনিরুদ্ধ বাড়ির মালিক দেবাংশুকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু দেবাংশু নিজের জেদের বশে বাড়িতে থাকতে রাজি হন। কিছুদিন পর তাকেও একইভাবে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

“রায় ম্যানশন” তার অভিশাপের ভার আজও বহন করে। কেউ আর সেখানে থাকতে সাহস পায় না, এবং বাড়িটি চিরতরে পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে।