কলকাতার এক বিখ্যাত বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অভিজিৎ বসুকে তার অফিস কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। গলায় দাগ দেখে বোঝা গেল, তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ঘরের পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকলেও একটি জিনিস চোখে পড়ে—অভিজিতের ডেস্কে রাখা টেবিল ঘড়িটি থেমে গেছে, এবং সময় দেখাচ্ছে ঠিক ৩টা।
কেসটি হাতে নিলেন বিখ্যাত গোয়েন্দা শৌর্য সেন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তিনি দেখলেন, দুপুর ২:৪৫ থেকে ৩:১৫-এর মধ্যে ক্যামেরাগুলি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সেই সময়ই অভিজিৎ খুন হয়েছেন।
অভিজিতের সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল, তিনি কঠোর এবং প্রায়ই অনেকের সঙ্গে তর্কে জড়াতেন। তার সেক্রেটারি রিমা দাস জানান, ঘটনার আগের দিন অভিজিৎ একজন ক্লায়েন্টের সঙ্গে তীব্র ঝগড়া করেছিলেন। ক্লায়েন্টের নাম ছিল বিক্রম শেঠ।
শৌর্য বিক্রমের সঙ্গে কথা বলেন। বিক্রম জানান, তিনি সত্যিই অভিজিতের সঙ্গে ঝগড়া করেছিলেন, কিন্তু ঘটনার দিন তিনি শহরের বাইরে ছিলেন। তার অ্যালিবি যাচাই করে শৌর্য নিশ্চিত হন, বিক্রম এই ঘটনায় জড়িত নন।
তদন্ত আরও গভীরে যেতে শৌর্য খেয়াল করেন, অভিজিতের ডেস্কের ঘড়িটি স্বাভাবিকভাবে থামেনি; সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে থামানো হয়েছে। ঘড়ির নিচে একটি ক্ষুদ্র চিপ পাওয়া গেল, যা একটি শব্দ রেকর্ড করেছে। রেকর্ডিং শুনে শৌর্য একটি অস্পষ্ট কথোপকথনের অংশ পান, যেখানে অভিজিৎ চিৎকার করে কারো নাম বলছিলেন—”রিমা।”
রিমাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে অস্বীকার করেন, কিন্তু শৌর্যের তীক্ষ্ণ যুক্তি এবং প্রমাণের চাপে শেষমেশ স্বীকার করেন। রিমা জানান, অভিজিৎ তাকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতন করছিলেন। রাগ এবং প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে রিমা এই খুন করেন।
ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে রিমা ভেবেছিলেন, তিনি খুনের সময়টিকে ধোঁয়াশায় ঢেকে দেবেন। কিন্তু শৌর্যের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ এবং বুদ্ধিমত্তার কাছে সব রহস্য ফাঁস হয়ে গেল। রিমাকে গ্রেপ্তার করা হলো, এবং অফিসের পরিবেশে এক গভীর শূন্যতা রয়ে গেল।
