কলকাতার বিখ্যাত ব্যবসায়ী অরিন্দম রায়কে এক সকালে তার অফিসের কেবিনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। গলায় দাগ দেখে স্পষ্ট বোঝা গেল, তাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু সেখানেই পাওয়া গেল অরিন্দমের ডেস্কের একটি খোলা চিঠি, যা তার শেষ কথাগুলি প্রকাশ করেছিল।
চিঠিতে লেখা ছিল:
“আমি জানি, আমার সময় শেষ হয়ে এসেছে। আমার বিশ্বাসঘাতক খুব কাছের কেউ। এই খুনের কারণ তোমরা খুঁজে পাবে একটি বিশেষ ‘চাবি’ থেকে। আমার খুনির মুখোশ উন্মোচন করবে এই চাবি।”
গোটা চিঠি রহস্যময় সংকেতে ভরা ছিল। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হলো গোয়েন্দা অভীক চৌধুরীকে। অভীক প্রথমেই অরিন্দমের পারিবারিক এবং অফিসের লোকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। তার সন্দেহ মূলত ব্যবসার প্রতিযোগীদের উপর ছিল।
অরিন্দমের স্ত্রী নন্দিতার থেকে জানা গেল, অরিন্দম গত কয়েকদিন ধরে খুবই চিন্তিত ছিলেন এবং কারো সঙ্গে ফোনে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিলেন। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ব্যবসার অংশীদার জয়দীপ জানান, অরিন্দম সম্প্রতি একটি বড় চুক্তি বাতিল করেছিলেন।
চিঠিতে উল্লেখিত “চাবি” শব্দটি অভীককে ভাবিয়ে তুলল। তিনি অরিন্দমের অফিস তল্লাশি করে একটি ছোট সিন্দুক খুঁজে পেলেন, যার তালা খোলার জন্য একটি বিশেষ চাবি প্রয়োজন। কিন্তু চাবিটি সেখানে ছিল না।
এরপর অভীক অরিন্দমের ব্যক্তিগত নথিপত্র খুঁজতে গিয়ে তার ডায়েরি থেকে একটি সংকেত পান—”চাবি লুকিয়ে আছে সেই জায়গায়, যেখানে সবকিছু শুরু হয়েছিল।”
অভীক বুঝলেন, এটি অরিন্দমের পুরনো কারখানার কথা বলা হয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি একটি পুরনো টেবিলের নিচে চাবিটি খুঁজে পেলেন। সিন্দুকটি খুলতেই বেরিয়ে এল এক চুক্তিপত্র, যেখানে জয়দীপের নাম জড়িয়ে ছিল।
জয়দীপ আসলে প্রতারণা করে অরিন্দমের সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছিল। অরিন্দম সেটা বুঝে গেলে জয়দীপ তাকে খুন করার পরিকল্পনা করে।
অভীক তার চতুর বিশ্লেষণ এবং অরিন্দমের চিঠির সংকেতের সাহায্যে জয়দীপকে গ্রেপ্তার করলেন। সত্য প্রকাশিত হলো, কিন্তু অরিন্দমের মৃত্যুর শোক চিরকাল তার পরিবারকে তাড়া করে বেড়াল।
