শহরের ছোট্ট লাইব্রেরিতে রোজ বিকেলে বসে বই পড়ত তৃণা। বইয়ের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা, আর লাইব্রেরির নিস্তব্ধ পরিবেশ তার শান্তির জায়গা হয়ে উঠেছিল। একদিন, একটি বইয়ের তাকে খুঁজতে গিয়ে সে দেখতে পেল একজন ছেলেকে, যার চোখ গভীর মনোযোগে মগ্ন ছিল একটি পৃষ্ঠায়।
ছেলেটির নাম ছিল অভ্র। লাইব্রেরির এক কোণে বসে অভ্রও প্রতিদিন পড়াশোনায় ডুবে থাকত। প্রথমদিকে তৃণা তার দিকে খেয়াল না করলেও, একদিন একটি বই নেওয়ার সময় তাদের হাত একসঙ্গে স্পর্শ করে। তৃণা লজ্জা পেয়ে সরি বলল, কিন্তু অভ্র মুচকি হেসে বলল, “আপনার পছন্দটা ভালো। আমিও এই বইটা নিতে চেয়েছিলাম।”
এরপর তাদের মধ্যে নীরব ভাষায় একটা সম্পর্ক তৈরি হতে লাগল। কেউ কারও সঙ্গে সরাসরি কথা বলত না, কিন্তু প্রতিদিন একই সময় লাইব্রেরিতে দেখা হয়ে যেত। একদিন তৃণা দেখতে পেল অভ্র একটি ছোট নোট রেখে গেছে তার প্রিয় বইয়ের ভেতরে।
নোটে লেখা ছিল, “তুমি কি জানো, তোমার বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আমার মন কেড়ে নিয়েছে? নীরবতাই হয়তো আমাদের ভাষা, কিন্তু তোমার সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে ইচ্ছে হয়।”
তৃণা লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে উত্তর দিল একটি নোটেই, “হয়তো লাইব্রেরি আমাদের মিলনস্থল। এখানে আমরা গল্পগুলো শেয়ার করতে পারি। দেখা করব?”
পরের দিন অভ্র তৃণার জন্য অপেক্ষা করছিল। তৃণা কাছে এসে বলল, “নীরবতাও যে ভালোবাসার মাধ্যম হতে পারে, তুমি সেটা শিখিয়েছ।”
সেই দিন থেকে তারা একসঙ্গে বই পড়া শুরু করল। লাইব্রেরি তাদের প্রেমের সাক্ষী হয়ে রইল চিরকাল।
