ট্রেনের জানালায় চোখাচোখি

অনিন্দিতা প্রতিদিন সকালে ট্রেনে চেপে অফিসে যেত। ট্রেনের জানালার পাশের সিটটাই তার পছন্দের জায়গা। হাওয়ায় চুল এলোমেলো করে জানালার বাইরের প্রকৃতিতে ডুবে থাকত সে।

একদিন ট্রেনে উঠে সে খেয়াল করল, তার সামনের সিটে বসে আছে এক যুবক। যুবকের চোখে ছিল একটা গভীরতা, যা একবার দেখলেই ভোলার নয়। তাদের চোখাচোখি হলো, কিন্তু কেউ কোনো কথা বলল না।

এরপর প্রতিদিন সকালে একই ট্রেন, একই কামরা। ছেলেটির নাম ছিল রুদ্র, সে অনিন্দিতার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকত। একদিন সাহস করে রুদ্র বলল, “আমি কি এখানে বসতে পারি?” অনিন্দিতা অবাক হলেও মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।

তাদের কথোপকথন শুরু হলো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে—ট্রেনের ভিড়, আবহাওয়া, কাজের চাপ। কিন্তু ধীরে ধীরে তারা একে অপরের জীবনের গল্প ভাগ করে নিতে লাগল।

একদিন হঠাৎই রুদ্র জানাল, সে অন্য শহরে বদলি হয়ে যাচ্ছে। ট্রেনযাত্রার সেই মুহূর্তে অনিন্দিতার মন ভেঙে গেল। রুদ্র বলল, “তোমাকে জানালার পাশের সিটে আর দেখতে পাব না—ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।”

শেষ যাত্রার দিন, রুদ্র ট্রেন থেকে নামার সময় অনিন্দিতার হাতে একটি ছোট কাগজ ধরিয়ে দিল। কাগজে লেখা ছিল, “আমার জন্য অপেক্ষা করবে?” অনিন্দিতার চোখ ভিজে উঠল, আর সে মুচকি হেসে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল।

কয়েক মাস পর, হঠাৎ এক সকালে, সেই ট্রেনের জানালার পাশে বসা অনিন্দিতা অনুভব করল, কেউ যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে। ঘুরে দেখল—রুদ্র হাসিমুখে দাঁড়িয়ে। তারা আবারও একসঙ্গে হল, আর সেই জানালার পাশে তাদের গল্প চলতে থাকল চিরকাল।