রাহুলের জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে গ্রামের নদীর ধারে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে। একদিন বিকেলে, গাছের ছায়ায় বসে নদীর দিকে তাকিয়ে ছিল সে। ঠিক তখনই সে দেখতে পেল, শহরের পোশাক পরা এক মেয়ে নদীর কাছে এসে বসল। মেয়েটির নাম ছিল অদিতি।
প্রথম দেখায় রাহুল তার থেকে চোখ ফেরাতে পারল না। অদিতি যেন শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এক টুকরো শান্তি খুঁজছিল। রাহুল একটু সাহস করে কথা বলল, “আপনি কি এখানের কেউ?”
অদিতি মুচকি হেসে বলল, “না, আমি শহর থেকে এসেছি। কিন্তু এই জায়গাটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর।”
ধীরে ধীরে তাদের কথোপকথন জমে উঠল। অদিতি জানতে পারল, রাহুল পড়াশোনার পাশাপাশি তার পরিবারের জমিতে কাজ করে। রাহুল বুঝতে পারল, অদিতি একজন চিত্রশিল্পী, প্রকৃতির ছবি আঁকা তার পছন্দ।
পরের দিনও অদিতি নদীর ধারে এলো, সঙ্গে ছিল তার রংতুলি। রাহুল তাকে সাহায্য করল নদীর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে। প্রতিদিন দেখা হতে লাগল, আর তাদের বন্ধুত্ব প্রেমে রূপ নিতে সময় লাগল না।
কিন্তু একদিন অদিতি জানাল, তাকে ফিরে যেতে হবে শহরে। রাহুলের মন ভেঙে গেল, কিন্তু কিছু বলতে পারল না। অদিতি চলে গেল, রেখে গেল তার আঁকা একটি ছবি, যেখানে নদীর ধারে রাহুলকে বসে থাকতে দেখা যায়।
মাসখানেক পর, হঠাৎ করেই অদিতি আবার গ্রামে ফিরে এল। সে রাহুলকে জানাল, শহরের জীবনে সে শান্তি পায়নি। তারা এবার একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। সেই নদী তাদের প্রেমের সাক্ষী হয়ে রইল চিরকাল।
