দেখা যায় না, ছোঁয়া যায়

রাজু শহরের এক ছোট ক্যাফেতে কাজ করত। দিনে বেশ কিছু সময় তার হাতে থাকত, তখন সে শহরের রাস্তা দিয়ে হেঁটে বেড়াত। কিন্তু গত কিছু দিন ধরে, এক অদ্ভুত অনুভূতি তাকে তাড়া করছিল—যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে।

প্রথমদিকে রাজু ভাবল, হয়তো তার ধারণা ভুল। কিন্তু দিন দিন এই অনুভূতি আরও প্রবল হতে লাগল। প্রতিদিন সে চলতে চলতে পিছনে তাকাত, কিন্তু কখনো কাউকে দেখতে পায়নি। কখনো মনে হতো, তার পেছনে কোনো পা ফেলা আওয়াজ হচ্ছে, কিন্তু যখন ফিরে তাকাত, রাস্তা ছিল একদম শুনশান।

একদিন রাজু ঠিক করল, এই রহস্যের সমাধান করবে। সে তার পথে আরও সচেতনভাবে হাঁটতে শুরু করল। এবার সে কিছুটা অস্বস্তি নিয়ে চলতে থাকল, আর প্রতিবার পেছনে তাকাত, কিন্তু কোনো সত্তা দেখা যায়নি। তার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেত, কিন্তু কারও উপস্থিতি ছিল না।

তবে এক রাতে, যখন রাজু তার বাড়ির দিকে ফিরছিল, হঠাৎ এক অদ্ভুত শীতল অনুভূতি তার শরীর বেয়ে উঠে। তার পিঠে যেন কিছু একটা হালকা করে স্পর্শ করল। সে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে চারপাশে তাকাল, কিন্তু কিছুই দেখা গেল না। এই অনুভূতি ক্রমশ আরও তীব্র হতে লাগল, যেন তার চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।

রাজু সেদিন একদম কাঁপতে কাঁপতে বাড়ি ফিরে এল। সে আর কোনোকিছু বলল না, কিন্তু রাতে তার ঘুমের মধ্যে যেন কেউ তাকে ছুঁয়ে দিল। তার হাত থেকে ধীরে ধীরে ঠান্ডা শিহরন বয়ে যেতে লাগল।

পরের দিন, সে তার বন্ধুকে বলল, “এমন কিছু অনুভব করছি, যেন কিছু অদৃশ্য সত্তা আমাকে অনুসরণ করছে। দেখাও যায় না, কিন্তু আমি জানি, কোথাও না কোথাও সে আছেই।” বন্ধুটি তাতে শুধু হাসল, কিন্তু রাজুর মন থেকে সেই ভয় যেন কিছুতেই যায় না।

দিনের পর দিন, সে সেই অদ্ভুত উপস্থিতির অনুভূতি অনুভব করতে থাকল, তবে কখনো সত্তা দৃশ্যমান হলো না। তার জীবন হয়ে উঠল এক অদৃশ্য তাড়া—“দেখা যায় না, ছোঁয়া যায়।”