দরজার পেছনের কাহিনী

রায় পরিবার শহরের এক প্রান্তে একটি পুরনো বাড়ি কিনেছিল। বাড়িটি অনেক বড় হলেও কিছুটা রহস্যময়। সবচেয়ে অদ্ভুত ছিল বাড়ির এক কোণে থাকা পুরনো লোহার দরজা। সেটি ছিল তালাবদ্ধ, আর চাবি পাওয়া যায়নি। বাড়ির আগের মালিক শুধু বলেছিলেন, “দরজাটি খোলার চেষ্টা করবেন না।”

কিন্তু মানুষের কৌতূহল সহজে চাপা থাকে না। রায় পরিবারের ছোট ছেলে অর্ণব সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিল দরজাটি নিয়ে। প্রায়ই সে দরজার সামনে গিয়ে কান পাতত। একদিন রাতে সে স্পষ্ট শুনতে পেল, ভেতর থেকে যেন কারও ফিসফিস আওয়াজ আসছে।

পরদিন সকালে সে তার বাবা-মাকে এই কথা জানাল। সবাই মিলে ঠিক করল, দরজাটি খুলে দেখা হবে। একজন তালা মিস্ত্রি ডেকে দরজাটি খুলতে বলা হলো। মিস্ত্রি দরজার কাছে আসতেই কেমন যেন অস্বস্তি অনুভব করল। “এটা খুললে বিপদ হতে পারে,” সে বলল। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তা মানল না।

তালা খোলার মুহূর্তে কেমন যেন ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এলো। দরজার ওপাশে ছিল একটি অন্ধকার ঘর। ঘরের ভেতরে একটি পুরনো কাঠের বাক্স রাখা। বাক্সটির চারপাশে অদ্ভুত চিহ্ন আঁকা ছিল, যা দেখে মনে হচ্ছিল এটি কোনো প্রাচীন ধর্মীয় প্রতীক।

তাদের ছোট মেয়ে রিয়া কৌতূহলবশত বাক্সটি খুলে ফেলল। সঙ্গে সঙ্গে ঘরের চারদিকে হাওয়া ঘুরে উঠল। ঘরের মেঝে কাঁপতে শুরু করল, আর এক অদ্ভুত ছায়ামূর্তি বাক্স থেকে বেরিয়ে এল। মূর্তিটি দেখতে মানুষের মতো, কিন্তু তার শরীর পুরো কালো আর চোখ ছিল আগুনের মতো জ্বলন্ত।

মূর্তিটি হেসে বলল, “তোমরা আমাকে মুক্ত করেছ। এখন তোমাদের জীবনও আমার নিয়ন্ত্রণে।”

ঘরটি ধোঁয়ায় ভরে উঠল। পরিবারের সবাই ভয়ে চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু সেই ছায়ামূর্তি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। এরপর থেকে তাদের জীবনে শুরু হলো অদ্ভুত সব ঘটনা। রাতে ঘুমানোর সময় কারও পায়ের কাছে কারও শ্বাস নেওয়ার শব্দ শোনা যেত। ঘরের জিনিসপত্র নিজে নিজেই নড়ত।

একদিন তারা পুরনো মালিকের সঙ্গে দেখা করতে গেল। মালিক বললেন, সেই দরজার ওপাশে আটকে রাখা ছিল এক অভিশপ্ত আত্মা, যা এখন মুক্ত।

রায় পরিবার আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকেনি। তারা বাড়ি ছেড়ে চলে গেল, কিন্তু বাড়িটি থেকে গেল তার অভিশাপের সঙ্গে। আজও সেই দরজা বন্ধ করে রাখা আছে, যেন আর কেউ ভুল করে সেটি না খুলে ফেলে।