পাহাড়ি মন্দিরের অভিশাপ

পাহাড়ের উপরে এক প্রাচীন মন্দির দাঁড়িয়ে ছিল বছরের পর বছর ধরে। স্থানীয় লোকেরা বলত, মন্দিরটি অভিশপ্ত। একসময় সেই মন্দিরে পুজো হত, কিন্তু একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর পুজো বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকে মন্দিরটি শূন্য, এবং কেউ সাহস করে সেখানে পা রাখে না।

তবে একদল পর্যটক এই কাহিনিকে গুজব বলে মনে করল। তাদের মধ্যে ছিলেন অরুণ, মীরা, বিজয়, আর সুনীতা। তাঁরা সেই মন্দিরের রহস্য জানতে চান এবং সেখানকার সৌন্দর্য ক্যামেরায় বন্দি করতে চান। স্থানীয়দের সাবধানবাণী উপেক্ষা করে তারা পাহাড়ের পাথুরে পথ বেয়ে মন্দিরে পৌঁছাল।

মন্দিরটি ভগ্নপ্রায়। বিশাল গম্বুজে শ্যাওলা জমে গেছে, আর মেঝেতে ছিল ভাঙা মূর্তি। বাতাসে এক ধরনের অদ্ভুত শীতলতা। পর্যটকরা ভিতরে ঢুকে ঘুরতে শুরু করল। বিজয় বলল, “দেখেছ, এত সুন্দর জায়গা! অভিশাপের কোনো চিহ্ন নেই।”

হঠাৎ মীরা একটি ঘরের দিকে তাকিয়ে থেমে গেল। ঘরটি অন্ধকার, কিন্তু ভেতর থেকে যেন কারও নিঃশ্বাসের শব্দ আসছে। মীরা কৌতূহলবশত ঘরে ঢুকল, আর সঙ্গে সঙ্গে দরজাটি প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। মীরা চিৎকার করতে লাগল, কিন্তু বাইরে থেকে বাকিরা কিছুতেই দরজা খুলতে পারছিল না।

ঠিক তখনই মন্দিরের অন্যপ্রান্ত থেকে মন্দিরজুড়ে গম্ভীর এক আওয়াজ প্রতিধ্বনিত হল। মন্দিরের ভাঙা মূর্তিগুলি ধীরে ধীরে নিজেদের জায়গা থেকে সরে যেতে লাগল। মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এলো এক ছায়ামূর্তি। সেই মূর্তির চোখ জ্বলজ্বল করছিল, আর তার মুখ থেকে এক অজানা ভাষায় মন্ত্রোচ্চারণ ভেসে আসছিল।

অরুণ আতঙ্কে চিৎকার করে বলল, “আমাদের এখানে আসা উচিত হয়নি!” কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। সেই অলৌকিক শক্তি তাদের চারদিকে ঘিরে ফেলল। ঘরের ভেতর থেকে মীরার চিৎকার শোনা যাচ্ছিল, যেন কেউ তাকে ধীরে ধীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।

শেষমেশ, স্থানীয় লোকেরা পরের দিন মন্দিরের কাছে পৌঁছে পর্যটকদের কোনো চিহ্ন খুঁজে পেল না। শুধু মন্দিরের প্রবেশদ্বারে একটি বাক্য লেখা ছিল—“অভিশপ্ত স্থান, ফিরে যাও।”

সেই ঘটনার পর আর কেউ সেই মন্দিরের কথা তুলতেও সাহস করেনি। মন্দিরটি রয়ে গেল রহস্যময়, যেন সেই অভিশাপের সাক্ষী।