সুমন, একজন সাহসী এবং কৌতূহলী সাংবাদিক, শহরের প্রান্তে অবস্থিত সাত নম্বর বাড়ি নিয়ে একটি প্রতিবেদন করতে চেয়েছিল। কথিত ছিল, বাড়িটি অভিশপ্ত। বহু বছর আগে সেখানে এক ধনী পরিবারের সবাই অদ্ভুতভাবে মারা যায়। এরপর থেকে কেউ বাড়িটিতে থাকার সাহস করেনি।
সুমনের মাথায় একটাই পরিকল্পনা—সেই বাড়িতে এক রাত কাটিয়ে সবার সামনে সত্যটা তুলে ধরা। বিকেল বেলায় সে তার ক্যামেরা, নোটবুক এবং টর্চ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাড়িটি ছিল ধ্বংসপ্রায়, ভাঙা জানালা, গায়ে শ্যাওলা ধরা দেয়াল আর ভাঙা দরজা দেখে মনে হচ্ছিল যেন এটি কালের সাক্ষী।
সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত। সুমন তার ক্যামেরা চালিয়ে পুরো বাড়ির চিত্র ধারণ করতে থাকে। প্রথম দিকে সব ঠিকঠাক মনে হচ্ছিল। হঠাৎ করে একটি কক্ষ থেকে দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। সে ভয় পেয়ে গেলেও মনে সাহস সঞ্চয় করে এগিয়ে গেল দরজার দিকে। দরজা ঠেলে খুলে সে দেখতে পেল ঘরের ভেতর একটি পুরনো আয়না।
আয়নার সামনে এসে সুমন অনুভব করল, তার শরীর হিম হয়ে আসছে। আয়নায় তার নিজের প্রতিবিম্বের পরিবর্তে দেখল এক নারীর মুখ—অত্যন্ত কুৎসিত এবং রক্তমাখা। নারীর মুখ হঠাৎ চিৎকার করে বলল, “তুই এখানে কী করছিস?” শব্দটা এত জোরে ছিল যে, সুমন আতঙ্কে পড়ে যেতে যেতে নিজেকে সামলাল।
সে দ্রুত কক্ষটি থেকে বের হতে চাইল। কিন্তু ঘরের দরজা তখন বন্ধ। সারা বাড়ি হঠাৎ কেঁপে উঠল। সিঁড়ি বেয়ে কারও ভারি পায়ের আওয়াজ ভেসে আসছিল।
সুমন বুঝতে পারল, সে একটি অদৃশ্য শক্তির কবলে পড়েছে। তার বুক ধড়ফড় করতে লাগল। হঠাৎই ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল, এবং সেই নারীর কণ্ঠ ভেসে এলো, “তুইও এখানে মরে যাবি, যেমন বাকিরা মরেছিল।”
সুমন সাহস করে তার টর্চটি জ্বালিয়ে দৌড় দিল। সিঁড়ি বেয়ে নেমে প্রধান দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করল। দরজাটি ভাঙা হলেও বাইরে যেতে গিয়ে মনে হলো অদৃশ্য শক্তি তাকে টেনে রাখছে। প্রচণ্ড চিৎকার করে দরজা ঠেলে সে শেষমেশ বেরিয়ে এল।
পরদিন সকালে শহরে ফিরে সে বাড়ির গল্প আর কাউকে বলতে সাহস করেনি। শুধু বলেছিল, “সাত নম্বর বাড়ি কারও জন্য নয়।”
