গভীর রাত। ঘড়ির কাঁটা তখন দুটো ছুঁইছুঁই। রমেনবাবু, পঞ্চাশোর্ধ্ব এক অধ্যাপক, গ্রামের এক নির্জন পথ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। দূরে কোথাও শেয়ালের ডাক শোনা যাচ্ছিল, আর গাছের পাতা ঠান্ডা হাওয়ায় মর্মর ধ্বনি তুলছিল। রমেনবাবু সেই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎই মনে হলো কেউ যেন তাঁর পেছনে হাঁটছে। তিনি থেমে গেলেন, পিছন ফিরে তাকালেন। কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলেন না।
কিছুক্ষণ পর আবার হাঁটতে শুরু করলেন। এবার সেই আওয়াজ আরও স্পষ্ট হলো। মনে হচ্ছিল, কারও নিঃশ্বাসের শব্দ তাঁর খুব কাছেই। হঠাৎ, ঝোপের আড়াল থেকে একটা ধবধবে সাদা ছায়ামূর্তি বেরিয়ে এলো। রমেনবাবুর বুকের ভেতর দিয়ে যেন হিমেল শীতলতা প্রবাহিত হলো। তিনি কাঁপা গলায় বললেন, “কে তুমি? কী চাই?”
ভূতসদৃশ সেই ছায়া মূর্তি কোনো কথা বলল না। বরং ধীরে ধীরে রমেনবাবুর দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। তার লাল জ্বলজ্বলে চোখ দেখে রমেনবাবুর মনে হলো, আজ বুঝি তাঁর শেষ দিন। তিনি পেছন ফিরে দৌড়ানোর চেষ্টা করলেন, কিন্তু পা যেন জমে গেল। ভূতটি তখন তার হাড় জিরজিরে হাত দিয়ে রমেনবাবুর কাঁধ স্পর্শ করল।
হঠাৎ করে রমেনবাবুর মনে পড়ল, তাঁর ঠাকুমার একসময় বলা একটি মন্ত্র। তিনি সাহস সঞ্চয় করে সেই মন্ত্রটি উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। “ওম নারায়ণায় বিদ্যে…” মন্ত্র বলার সঙ্গে সঙ্গে ভূতটি তীব্র শব্দে চিৎকার করে ওঠে এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সেই ছায়ামূর্তি অদৃশ্য হয়ে যায়।
প্রায় অবিশ্বাস্যভাবে রমেনবাবু বুঝতে পারলেন যে, তিনি বেঁচে গেছেন। অন্ধকার রাস্তা থেকে তিনি প্রাণপণে ছুটতে শুরু করেন। একসময় তিনি তাঁর গ্রামে পৌঁছে সবাইকে ঘটনাটি খুলে বললেন। কেউ বিশ্বাস করল, কেউ করল না। কিন্তু রমেনবাবু জানতেন, তিনি সত্যিই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন। সেই রাতের পর আর কোনোদিন তিনি সেই পথে পা রাখেননি।
