রাজা-রানির জামার রহস্য

রাজা কৃপাল সিংহ ছিলেন এক অদ্ভুত মানুষ। তিনি সবসময় নতুন জামা-কাপড় নিয়ে ভাবনায় থাকতেন। তার রাজ্যের সেরা দর্জি প্রতিদিন তার জন্য নতুন পোশাক বানাতেন, কিন্তু রাজা কখনও সন্তুষ্ট হতেন না। রানী মধুমালতী এই নিয়ে ভীষণ বিরক্ত।

একদিন রাজা ঘোষণা করলেন, “আমি এমন একটা জামা চাই, যা কেউ আগে কখনও দেখেনি। এমন জামা বানাও যা রাজ্যের সবাই দেখে বিস্মিত হবে!”

দর্জি ভেবে ভেবে ক্লান্ত, রানী মধুমালতী একটা পরিকল্পনা করলেন। তিনি রাজাকে বললেন, “মহারাজ, আমি শুনেছি, স্বর্গের দেবতারা এক অদৃশ্য জামা পরেন। আমি একজন বিশেষ শিল্পীকে ডাকব, যিনি সেই জামা বানাতে পারেন।”

রাজা খুশি হয়ে বললেন, “তাহলে দেরি কেন? তাড়াতাড়ি আনো তাকে!”

পরের দিন এক ছদ্মবেশী শিল্পী এলেন, যাকে রানী আগেই বলেছিলেন, “তুমি কিছুই বানাবে না, শুধু বলবে যে জামা অদৃশ্য।”

শিল্পী বেশ নাটকীয়ভাবে রাজাকে বললেন, “মহারাজ, এই জামা কেবল সেই দেখতে পারে, যে সত্যিকারের জ্ঞানী। মূর্খরা কখনও এটি দেখতে পাবে না।”

রাজা নিজের নতুন ‘অদৃশ্য’ জামা পরে সিংহাসনে বসলেন। সবার দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখো, কত সুন্দর জামা! কেউ কি বলতে পারবে, এমন জামা আগে দেখেছ?”

দরবারের সবাই ভয় পেয়ে মাথা নাড়ল। “হ্যাঁ মহারাজ, অতুলনীয়!”

তবে হঠাৎ ছোট্ট রাজপুত্র চেঁচিয়ে উঠল, “বাবা, তুমি জামা পরনি কেন?”

রাজা হতবাক, সবাই ফিসফিস শুরু করল। রানী মুচকি হেসে বললেন, “মহারাজ, জ্ঞানী হওয়ার পথে এখনও তোমার একটু ঘাটতি আছে মনে হয়!”

সেই দিন থেকে রাজা আর কখনও জামা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলেন না। তবে দরবারে গল্পটা হাসির খোরাক হয়ে রইল। 😄