ইন্সপেক্টর শম্ভু দাস, শহরের পুলিশের গর্ব। তবে তিনি নিজেকে শুধু পুলিশ মনে করতেন না—মনে করতেন, তিনি একেবারে সুপারহিরো! অফিসারদের ইউনিফর্মের ভেতর গোপনে একটা সুপারম্যানের টি-শার্ট পরে রাখতেন। তার বিশ্বাস ছিল, বিপদের সময় এই টি-শার্টই তাকে অতিমানবীয় শক্তি দেবে।
একদিন থানায় খবর এল, শহরের এক বিখ্যাত মিষ্টির দোকানে চুরি হয়েছে। চোর এমন সাফাইয়ের কাজ করেছে যে, দোকানের একটা লাড্ডুও বাকি নেই। শম্ভু দাস দৃপ্তকণ্ঠে বললেন, “এবার চোর ধরতে আমার সুপারহিরো মোড অন করতে হবে!”
রাতের বেলা শম্ভু দাস গোপনে দোকানের সামনে গিয়ে বসে থাকলেন। তার ধারণা ছিল, চোর আবার আসবে। হাতে একটা খেলনা ওয়াকি-টকি নিয়ে নিজের সঙ্গে নিজেই ফিসফিস করে বললেন, “ইন্সপেক্টর শম্ভু টু হেডকোয়ার্টার, চোর ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন!”
হঠাৎ দোকানের পেছন থেকে শব্দ হলো। শম্ভু লাফ দিয়ে উঠলেন, তবে পা পিছলে পড়লেন এক বাক্স মিষ্টির উপর। দাঁড়িয়ে তাকিয়ে দেখেন, চোর আসলে দোকানের মালিকের পালিয়ে যাওয়া পোষা বাঁদর! বাঁদর লাড্ডুর বাক্স কাঁধে নিয়ে দৌড়াচ্ছে।
শম্ভু বললেন, “আজ তো বাঁদরকেই ধরতে হবে! সুপারহিরোর সম্মান রক্ষার প্রশ্ন!”
বাঁদরের পেছনে ছুটতে ছুটতে শম্ভু একটা ডাস্টবিনে পড়লেন, তারপর দোকানের গাছ বেয়ে উঠলেন। শেষমেশ বাঁদর লাড্ডুর বাক্স ফেলে পালাল।
পরদিন পেপারে শিরোনাম: “পুলিশের সুপারহিরো বাঁদর ধরতে গিয়ে নিজেই মিষ্টির মধ্যে!”
শম্ভু অবশ্য গর্বের সঙ্গে বললেন, “অভিযান সফল। চোর ধরার কাজ কঠিন, কিন্তু আমি সুপারহিরো বলে পেরেছি!” 😄
