গ্রামের স্কুলের মাস্টারমশাই, রামচন্দ্র বাবু, বয়স পঞ্চান্ন হলেও মনটা একেবারে তরুণ। কিন্তু প্রযুক্তির ব্যাপারে তিনি একেবারে ‘শূন্য’। মোবাইল ফোন বলতে পুরোনো বাটনের ফোন আর ইন্টারনেট বলতে গুগল খুঁজে ছবি দেখাই তার সীমাবদ্ধতা।
একদিন গ্রামের পঞ্চায়েত সিদ্ধান্ত নিল, স্কুলের পড়াশোনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি আনা হবে। রামচন্দ্র বাবুর জন্য নতুন একটা স্মার্টফোনও কিনে দেওয়া হলো। তার ছোট ছাত্র সঞ্জু দায়িত্ব নিল মাস্টারমশাইকে ফোনের ব্যবহার শেখানোর।
সঞ্জু বলল, “মাস্টারমশাই, এই ফোনে সব করা যায়! গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক… সব!”
মাস্টারমশাই অবাক হয়ে বললেন, “ফেসবুক দিয়ে কি পড়াশোনা করানো যায়?”
সঞ্জু বলল, “না, তবে গুগল দিয়ে অনেক কিছু শেখা যায়।”
পরদিন স্কুলে রামচন্দ্র বাবু ছাত্রদের বললেন, “আজ থেকে ইন্টারনেট দিয়ে পড়াশোনা হবে। আমি গুগলে প্রশ্ন দেব, তোমরা উত্তর দেবে।”
তবে প্রথম দিনেই এক মজার কান্ড ঘটল। রামচন্দ্র বাবু গুগলে গিয়ে লিখলেন, “সাধারণ জ্ঞান প্রশ্ন”। কিন্তু অজান্তে ভুল করে লিখলেন “সাধারণ প্রেমের প্রশ্ন”। ফলাফল? স্ক্রিনে দেখা দিল একগুচ্ছ প্রেমের টিপস!
ছাত্ররা হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে, আর মাস্টারমশাই চশমা ঠিক করতে করতে বলছেন, “এই গুগলও একেবারে অদ্ভুত! পড়াশোনার বদলে প্রেম শেখায়! ছিঃ!”
সেদিন পুরো গ্রামে হাসির রোল উঠল। তবে মাস্টারমশাইও সহজে হাল ছাড়ার মানুষ নন। তিনি সঞ্জুকে ডেকে বললেন, “এই প্রেমট্রেম বাদ দিয়ে কিভাবে পড়াশোনা বের করা যায়, সেটা শেখাও।”
কয়েকদিন পর রামচন্দ্র বাবু এমন এক্সপার্ট হয়ে গেলেন যে, পুরো গ্রাম তাকে ডাকতে লাগল “ডিজিটাল মাস্টারমশাই”। আর ছাত্ররা তাকে দুষ্টুমি করে বলে, “মাস্টারমশাই, প্রেমের প্রশ্ন চাই না, সাধারণ জ্ঞান দিলেই হবে!” 😄
