একটা ছোট্ট গ্রামে থাকতো রামলোচন, গ্রামজুড়ে যার ডাকনাম ছিল “রামলোচন পিকাসো”। আঁকার বাতিক তাকে এমনভাবে পেয়ে বসেছিল যে, গ্রামের প্রতিটি দেয়ালে, গাছের গুঁড়িতে, এমনকি হাঁসের ডিমেও তিনি ছবি আঁকতেন। তবে সমস্যা একটাই—তার আঁকা ছবিগুলো কেউই ঠিকঠাক বুঝতে পারতো না।
একদিন, গ্রামের মোড়লের কাছে এসে রামলোচন বললেন, “মোড়লবাবু, আপনার ছবি আঁকব!” মোড়ল রাজি হলেন, তবে শর্ত দিলেন, “যদি ছবি দেখে চিনতে পারি, তাহলে পুরস্কার; আর যদি না পারি, তবে একমাসের ভাত রান্না তোমার!”
রামলোচন গায়ের সেরা তুলিটা নিয়ে মোড়লের মুখের ছবি আঁকতে বসে গেলেন। ঘণ্টাখানেক পরে সে ছবি মোড়লকে দেখালে, তিনি অদ্ভুত মুখ করে বললেন, “এটা কী? এটা তো দেখছি মাছ আর গরুর মিশ্রণ!”
রামলোচন মাথা চুলকে বললেন, “মোড়লবাবু, এটা আপনার ‘অন্তর্নিহিত ব্যক্তিত্ব’ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা!”
মোড়ল ক্ষেপে গিয়ে বললেন, “তোমার ব্যক্তিত্ব বোঝানোর দরকার নেই, আমার চেহারাটা দাও আগে!”
সবাই হাসিতে ফেটে পড়লো। রামলোচন বুঝলেন, এবার কিছু একটা করতে হবে। তিনি নতুন করে ছবি আঁকলেন। এবার মোড়ল কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে থেকে বললেন, “এই তো! এবার বুঝলাম—আমার ছেলেবেলার মতো লাগছে।”
ততক্ষণে গ্রামবাসীর দল ছবিটা দেখে বলছে, “মোড়লবাবু, ওটা তো আপনার পোষা ছাগলের মুখ!”
রামলোচনের সেই দিন থেকেই নাম হয়ে গেল “ছাগল শিল্পী”! তবে তিনি হাল ছাড়েননি—পরের সপ্তাহে গ্রামের মেলায় “ছাগলের প্রদর্শনী” দিয়ে সবার মন জয় করে নিলেন।
মোড়ল অবশ্য আজও রামলোচনের ‘ব্যক্তিত্ব’ বোঝার চেষ্টা করছেন!
