রাজস্থানের বিশাল থর মরুভূমিতে একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ প্রাচীন এক গুপ্তধনের সন্ধানে খননকাজ চালাচ্ছিল। এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডঃ সৌরভ মিত্র, একজন নামকরা প্রত্নতত্ত্ববিদ। বহু দিনের খোঁজাখুঁজির পর সৌরভ এবং তার দল একটি প্রাচীন মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন। মন্দিরের ভেতরে একটি পুরনো মানচিত্র পাওয়া যায়, যাতে গুপ্তধনের অবস্থান চিহ্নিত করা ছিল।
কিন্তু সেই রাতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। ক্যাম্পের সবাই সকালে জেগে দেখে, ডঃ সৌরভ তার তাঁবুর মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার গলায় ছিল গভীর ক্ষতচিহ্ন। তার হাতের কাছে পাওয়া যায় ছেঁড়া মানচিত্রের টুকরো।
কেসটি রাজস্থান পুলিশের মাধ্যমে গোয়েন্দা বিভাস মুখার্জির হাতে আসে। বিভাস প্রথমেই ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন। সৌরভের তাঁবুতে পাওয়া মানচিত্রের টুকরো এবং খননকাজের কিছু নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে বিভাস খেয়াল করেন, মানচিত্রের কিছু অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।
সৌরভের সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভাস জানতে পারেন, সম্প্রতি সৌরভের সহকারী রোহিত তার সঙ্গে চরম তর্ক করেছিলেন। রোহিত মনে করেছিলেন, সৌরভ তাকে এই আবিষ্কারের কৃতিত্ব থেকে বঞ্চিত করবেন।
তবে বিভাস আরও খতিয়ে দেখে আবিষ্কার করেন, রোহিত নয়, বরং সৌরভের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রত্নতত্ত্ববিদ আরমান খান এই হত্যার পেছনে ছিলেন। আরমান গুপ্তধনের খবর আগেই জানতে পেরেছিলেন এবং নিজের লোকদের সাহায্যে সৌরভকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন। সৌরভ তার তাঁবুতে এই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে মানচিত্রটি লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন।
বিভাস আরমানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে তাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে বিভাস সৌরভের দলকে সেই গুপ্তধনের সন্ধান সফলভাবে শেষ করতে সাহায্য করেন। তবে সৌরভের মৃত্যু এক শূন্যতা তৈরি করে, যা তাদের আবিষ্কারের আনন্দকে ম্লান করে দেয়।
