কলকাতার বিখ্যাত আর্ট গ্যালারি ‘সৃজন আর্ট হাউস’-এ এক সন্ধ্যায় প্রদর্শিত হচ্ছিল বিখ্যাত চিত্রশিল্পী অরুণাভ সিংহের অমূল্য সৃষ্টি ‘রৌদ্রছায়া’। এই পেইন্টিংটি শিল্পজগতে এক যুগান্তকারী সৃষ্টি বলে ধরা হয়, যার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু প্রদর্শনী শেষ হওয়ার ঠিক আগে, একটি ব্ল্যাকআউট ঘটে, এবং আলো ফিরে আসার পর দেখা যায়, পেইন্টিংটি গায়েব।
আর্ট গ্যালারির মালিক অনিকেত সেন তৎক্ষণাৎ পুলিশ ডেকে পাঠান। পুলিশের পাশাপাশি তদন্তে নামেন বিখ্যাত গোয়েন্দা সায়ন চক্রবর্তী। পেইন্টিংটির গুরুত্ব এবং অর্থমূল্যের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নেন।
সায়ন প্রথমে গ্যালারির স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। নিরাপত্তারক্ষী জানায়, ব্ল্যাকআউটের সময়ে কেউ গ্যালারি থেকে বের হতে দেখেনি। সায়ন সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখেন, ব্ল্যাকআউটের ঠিক আগে একজন দর্শনার্থী, যার মুখ অর্ধেক ঢাকা ছিল, পেইন্টিংটির খুব কাছে গিয়েছিল।
সায়ন গ্যালারির পরিবেশ খতিয়ে দেখে একটি অদ্ভুত জিনিস লক্ষ্য করলেন। পেইন্টিংটির ঠিক নিচে মেঝেতে ছোট্ট একটি ছাইয়ের দাগ। পরীক্ষা করে জানা গেল, এটি অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির লেজার কাটা যন্ত্রের প্রমাণ। সায়ন বুঝতে পারলেন, চুরি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
পেইন্টিং চুরি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক আর্ট চোরাচালানের কিছু পুরনো কেস খুঁজতে গিয়ে সায়ন জানতে পারলেন, এই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার এর আগে ইউরোপে একটি চুরির ঘটনায় দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনায় একজন প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন ড্যানিয়েল কার্টার, একজন আন্তর্জাতিক আর্ট স্মাগলার।
সায়ন ড্যানিয়েলের সংযোগ খুঁজতে গিয়ে একটি গোপন সূত্রে জানতে পারেন, একটি পেইন্টিং কালোবাজারে বিক্রির জন্য ব্যাংকক পাঠানো হয়েছে। সায়ন সঙ্গী পুলিশের সাহায্যে একটি অপারেশন চালিয়ে সেখান থেকে ‘রৌদ্রছায়া’ উদ্ধার করেন এবং ড্যানিয়েল কার্টার ও তার চক্রের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেন।
গ্যালারিতে পেইন্টিংটি ফিরে আসে, এবং সায়নের তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং দ্রুত পদক্ষেপের জন্য সবাই প্রশংসায় ভাসে। কিন্তু আর্ট চোরাচালান চক্রের এই রহস্যময় জগত সায়নকে এক নতুন দুঃসাহসিক অভিযানের দিকে ডেকে নিয়ে গেল।
