অন্ধকার জাহাজের যাত্রী

সাগরের বুক চিরে এগিয়ে চলা বিলাসবহুল জাহাজ “মেরিনা রোজ”, যার উদ্দেশ্য সাত দিনের একটি পর্যটন ভ্রমণ। প্রতিদিন জাহাজে যাত্রীরা খাওয়া-দাওয়া, গান-বাজনা আর বিনোদনের মাঝে মেতে থাকত। কিন্তু তৃতীয় দিনেই জাহাজে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। এক যাত্রী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজীব সেন নিখোঁজ।

প্রথমে ভেবেছিল কেউ হয়তো ভুল বুঝছে, কিন্তু সারাদিন খোঁজাখুঁজি করেও রাজীবের কোনো হদিস পাওয়া গেল না। ক্যাপ্টেন এ ঘটনা চেপে রাখতে চাইলেন, যাতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়। কিন্তু পরদিন আরেক যাত্রী, রূপা দাস, নিখোঁজ হয়ে গেলেন। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হতে শুরু করল।

এমন সময় জাহাজে উপস্থিত হলেন গোয়েন্দা ইশান রায়, যিনি ছুটিতে ছিলেন এবং কাকতালীয়ভাবে এই জাহাজের যাত্রী। ক্যাপ্টেন তার সাহায্য প্রার্থনা করলেন।

ইশান সবার তথ্য সংগ্রহ শুরু করলেন। রাজীব এবং রূপার মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজতে গিয়ে জানতে পারলেন, তারা দুজনই গত রাতে জাহাজের ক্লাবে সময় কাটিয়েছিলেন। ক্লাবের ক্যামেরা ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তিনি দেখলেন, সেখানে এক ব্যক্তি, দেবাংশু ঘোষ, তাদের সঙ্গে বারবার কথা বলছিলেন।

ইশান দেবাংশুর সঙ্গে কথা বললে দেবাংশু নার্ভাস হয়ে পড়লেন। ইশানের সন্দেহ বাড়ল। এরপর একটি কেবিন থেকে রক্তের দাগ পাওয়া গেল। সেই কেবিন ছিল এক বৃদ্ধা, মীরা দেবীর, যিনি দিনভর অসুস্থতার কারণে কেবিনে ছিলেন। ইশান তার কেবিন তল্লাশি করতে গিয়ে একটি ছুরি এবং রক্তমাখা জামা খুঁজে পেলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মীরা দেবী কেঁদে ফেললেন এবং স্বীকার করলেন, রাজীব এবং রূপা দুজনেই তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছিলেন। মীরা দেবীর ছেলে সেই মামলায় আত্মহত্যা করেছিল। প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে তিনি পরিকল্পিতভাবে রাজীব এবং রূপাকে খুন করেন এবং দেহগুলো জাহাজ থেকে সাগরে ফেলে দেন।

ইশান মীরা দেবীকে ক্যাপ্টেনের হাতে তুলে দিলেন। যাত্রীরা দুঃস্বপ্নের যাত্রা শেষে বাড়ি ফিরে গেলেও সেই জাহাজের অন্ধকার রহস্য তাদের মনে চিরকাল থেকে গেল।