নিখোঁজ লকেটের রহস্য

শ্যামনগরের বিখ্যাত রায়চৌধুরী পরিবারে হুলস্থুল কাণ্ড। তাদের উত্তরাধিকারী সোনার লকেট, যার গায়ে নাকি পরিবারের প্রাচীন ইতিহাস খোদাই করা ছিল, এক রাতেই চুরি হয়ে যায়। লকেটটির আর্থিক ও ঐতিহাসিক মূল্য এতটাই বেশি যে গোটা পরিবারই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

পরিবারের কর্তা সুধাংশু রায়চৌধুরী গোয়েন্দা রণজয় সেনকে ডেকে পাঠালেন। রণজয় পরিবারের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। বাড়ির প্রত্যেকেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করল। কিন্তু গোয়েন্দার তীক্ষ্ণ চোখে ধরা পড়ল ছোট কিছু অস্বাভাবিকতা।

রণজয় প্রথমে কাজের লোকদের দিকে মনোযোগ দিলেন। কাজের মেয়ে রাধার কথায় সামান্য অসঙ্গতি নজরে এলো। সে বলেছিল, রাতে সে রান্নাঘরে ছিল, কিন্তু এক কর্মচারী জানিয়েছিল, তাকে সে রাতের এক পর্যায়ে উঠোনে দেখেছিল।

পরের দিন গোয়েন্দা রণজয় রাধার ঘর তল্লাশি করলেন এবং সেখানেই লকেটটি পাওয়া গেল। পুরো পরিবার হতবাক হয়ে গেল, কিন্তু রাধা চুপ করে থাকল।

রণজয় তখন জানালেন, “রাধা দোষী নয়। লকেটটি এখানে রেখে চুরি নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।”

তাহলে আসল দোষী কে? রণজয় পুরো পরিবারের সামনে ছোট ছেলে সুমিতকে চিহ্নিত করলেন। সুমিত জুয়ায় টাকা হারিয়েছিল এবং সে লকেটটি বিক্রি করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ায় সে দোষ রাধার ঘাড়ে চাপানোর পরিকল্পনা করেছিল।

সুধাংশু কড়া চোখে সুমিতের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করলে।”

গোয়েন্দা রণজয়ের প্রজ্ঞা এবং তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণে রহস্য উন্মোচিত হলো। পরিবার আবার স্বস্তি পেল, কিন্তু সেই দিনের পর থেকে সুমিত আর পরিবারে আগের সম্মান পেল না।