গ্রামের প্রান্তে এক পুরনো স্কুল ছিল, যার নাম ছিল “সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়।” বহু বছর আগে স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। গ্রামবাসীরা বলত, স্কুলের প্রধান শিক্ষক অদ্ভুতভাবে মারা যাওয়ার পর থেকেই সেখানে অশান্তি শুরু হয়। রাতের বেলায় স্কুলের ভিতর থেকে কখনো হাসির শব্দ, কখনো কান্নার আওয়াজ শোনা যেত।
কিন্তু কিশোরদের দল এসব গল্পকে পাত্তা দিত না। একদিন, গ্রামের চার কিশোর—রবি, অমল, তানিয়া, আর বিজয়—মিলে ঠিক করল, রাতে স্কুলের ভেতর গিয়ে রহস্যের সমাধান করবে। তারা টর্চ আর মোবাইল নিয়ে সন্ধ্যার পর স্কুলে প্রবেশ করল।
স্কুলটি ছিল ধ্বংসপ্রায়। মেঝেতে ময়লা আর শ্যাওলা জমে ছিল, দেওয়ালজুড়ে ছিল ছাদের ভাঙা অংশ। চারপাশে নীরবতা, শুধু তাদের নিজেদের শ্বাসপ্রশ্বাসের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। তারা ধীরে ধীরে ক্লাসরুমের দিকে এগোল।
একটি ক্লাসরুমের দরজা খুলতেই ভেতর থেকে যেন ঠান্ডা বাতাসের ঝাপটা এল। রবি বলল, “ভূতের গল্প বলতে গিয়ে এসব গুজব বানিয়েছে। আসলে কিছুই নেই।” কিন্তু হঠাৎই তাদের কানে এলো চেয়ারের আওয়াজ। সবাই চমকে তাকাল।
তারা দেখতে পেল, ঘরের শেষ প্রান্তে একটি চেয়ার নিজের জায়গা থেকে সরে যাচ্ছে। চেয়ারটির ওপরে ভেসে উঠল একটি ছায়া। সেই ছায়াটি আস্তে আস্তে আকার ধারণ করল। তারা দেখতে পেল, একজন বয়স্ক লোক, যিনি পেন্সিল ধরে বোর্ডে কিছু লিখছেন।
“এটা কী!” তানিয়া ভয়ে ফিসফিস করে বলল। লোকটি হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখ ছিল ভয়ানক লাল, মুখে বিকৃত হাসি। তিনি চিৎকার করে বললেন, “আমার ছাত্ররা কোথায়? কেন ক্লাসে নেই?”
ভয় পেয়ে চারজন দৌড়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে অন্য একটি ঘরে লুকাল। কিন্তু তারা বুঝতে পারল, ঘরটিতে থাকা পুরনো বেঞ্চগুলি একে একে হাওয়ায় ভাসতে শুরু করেছে। ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর দরজার কাছে পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। দরজা খুলে সেই বয়স্ক শিক্ষক ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোমরা এখানে এসে ভুল করেছ। এই স্কুল কেউ ছেড়ে যায় না।”
কোনোমতে দরজা ভেঙে তারা দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। ভোর হওয়ার আগে আর কেউ কোনো কথা বলল না। সেই রাতের অভিজ্ঞতা তাদের মনে গভীর দাগ কাটল। এরপর থেকে স্কুলটি নিয়ে আর কেউ কৌতূহল দেখায়নি।
