পাহাড়ঘেরা ছোট্ট নির্জন গ্রামটির নাম বটতলা। দিনের বেলায় গ্রামটি যতটা শান্ত, রাত হলেই ততটাই ভয়ানক হয়ে ওঠে। গ্রামের মানুষজন সূর্যাস্তের পর কেউই বাইরে বেরোত না। কারণ, সেখানে রাতের অন্ধকারে প্রায়ই শোনা যেত দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ।
এক রাতের ঘটনা। গোপাল নামে এক যুবক, যিনি সদ্য শহর থেকে গ্রামে ফিরেছিলেন, এসব কথা বিশ্বাস করতেন না। তিনি ভাবতেন, এসবই গ্রামের মানুষের কল্পকাহিনি। সেদিন রাত দশটা নাগাদ গোপাল তার ঘরে বসে বই পড়ছিলেন। চারদিকে নীরবতা। হঠাৎই দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ ভেসে এলো—ঠক ঠক ঠক।
গোপাল প্রথমে ভাবলেন, হয়তো পাশের বাড়ির কেউ এসেছে। তিনি দরজা খুললেন, কিন্তু বাইরে কাউকেই দেখতে পেলেন না। চারপাশে শুধু ঘন অন্ধকার। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তিনি দরজা বন্ধ করে ফিরে এলেন।
কিন্তু কয়েক মিনিট পর আবার সেই শব্দ—ঠক ঠক ঠক। এবার গোপালের মনেও একটু ভয় ধরল। কিন্তু সাহস করে আবার দরজা খুলে বাইরে তাকালেন। এবারও কেউ নেই। শুধু ঠান্ডা হাওয়া তার গায়ে এসে লাগল।
তৃতীয়বার যখন দরজায় শব্দ হলো, গোপাল রাগে দরজা খুলে চিৎকার করে বললেন, “কে তুমি? এই খেলায় মজা পাচ্ছ?” কিন্তু তার কথা শেষ হওয়ার আগেই তিনি অনুভব করলেন, পেছন থেকে কেউ যেন তার কাঁধে হাত রাখল।
ভয়ে তিনি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলেন, তার ঘরের ভিতরে দাঁড়িয়ে আছে এক সাদা শাড়ি পরা বয়স্কা মহিলা। তার চোখ দুটো গহ্বরের মতো ফাঁকা, এবং মুখে ছিল এক অদ্ভুত হাসি। গোপাল আতঙ্কে পেছনে সরে গেলেন। মহিলা বলল, “আমার বাড়ি ছেড়ে দে। আমি এখানেই থাকতাম, এখনো থাকি। আমার ঘর থেকে কেউ পালাতে পারেনি।”
গোপাল তখন আর দেরি না করে দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। সারা রাত গ্রামের রাস্তায় বসে কাটানোর পর সকালে যখন মানুষজন জড়ো হলো, তিনি তাদের ঘটনাটি বললেন। গ্রামের প্রবীণরা জানালেন, গোপালের বাড়িটি একসময় এক বৃদ্ধার ছিল, যিনি সেখানে মারা গিয়েছিলেন। তারপর থেকে কেউ সেখানে থাকতে পারেনি।
সেই ঘটনার পর গোপাল গ্রাম ছেড়ে চলে যান। বটতলার মানুষ তখন থেকে সেই বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সাহসও করে না।
