বনগাঁর বিখ্যাত শিকারি রুদ্রনাথ সিংহ। লোকেরা বলে, তিনি বাঘ, হরিণ, আর কখনো কখনো হাতি শিকার করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে রুদ্রনাথের শিকারের গল্পগুলো সব সময়েই বেশ মজার আর অপ্রত্যাশিত।
একদিন তিনি জঙ্গলে গেলেন বানর শিকার করতে। সঙ্গে নিয়ে গেলেন তার পুরোনো বন্দুক আর কিছু কলা। তার ধারণা ছিল, কলা দিয়ে বানরকে ফাঁদে ফেলা খুব সহজ কাজ।
রুদ্রনাথ একটা বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কলাগুলো মাটিতে রেখে বন্দুক হাতে অপেক্ষা করতে লাগলেন। একটু পরেই গাছের ডালে একটা বানর এসে বসে তাকে দেখতে লাগল। রুদ্রনাথ মুচকি হেসে বললেন, “তোর দৌড় এখানেই শেষ, বানর রাজা!”
বানরটা গাছ থেকে নেমে একবার কলাগুলোর দিকে তাকাল, তারপর রুদ্রনাথের বন্দুকের দিকে। আচমকাই বানর কলাগুলো তুলে রুদ্রনাথের দিকে ছুঁড়তে লাগল। রুদ্রনাথ এতটাই হতভম্ব হয়ে গেলেন যে বন্দুক হাতে নিয়েও কিছু করতে পারলেন না।
অবস্থা খারাপ দেখে রুদ্রনাথ দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু বানর তার পেছনে ধাওয়া করে আরও কয়েকটা পাকা ফল মাটিতে কুড়িয়ে ছুঁড়ে দিতে লাগল। রুদ্রনাথ বললেন, “ওরে, এ কি শিকার করতে এলাম, না শিকার হলাম!”
শেষে গাছের নিচে পড়ে থাকা এক বড় কলায় পা পিছলে রুদ্রনাথ ধপ করে পড়ে গেলেন। বানর মজা পেয়ে তার বন্দুক তুলে গাছের ডালে বসে ফটো তোলার মতো ভঙ্গি করল।
সেদিন গ্রামের সবাই শুনল, শিকারি রুদ্রনাথ শিকার করতে গিয়ে নিজেই বানরের ‘শিকার’ হয়েছেন। সবাই এখন তাকে বলে, “কলার শিকারি”। 😄
