গাঁয়ের এক কোণে থাকতো রঘু, গ্রামের সবচেয়ে মজার ভিক্ষুক। সারাদিন ঝোলাঝুলি করলেও তার মনের রাজ্যে সবসময় হাসি আর ফুর্তি। তবে রঘুর একটা অভ্যাস ছিল—সবসময় নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা।
একদিন গ্রামের মোড়লের পুরোনো মোবাইল ফোনটা কোথা থেকে যেন রঘুর হাতে এসে পড়ল। রঘু ফোনটা নিয়ে খুব খুশি। মনে মনে ভাবল, “এবার আমিও আধুনিক ভিক্ষুক হব।”
সেদিন বাজারে গিয়ে সে সবাইকে ফোন দেখিয়ে বলতে লাগল, “দেখো ভাই, আমিও এখন মোবাইলওয়ালা! এখন থেকে গুগলে তোমাদের দান করার পরিমাণ লিখে রাখব!”
গল্প এখানেই শেষ নয়। বিকেলে রঘু মন্দিরের সামনে বসে মোবাইল ঘাঁটছিল। হঠাৎ ভুলে মোড়লের ফোনে থাকা একটি নম্বরে কল দিয়ে ফেলল। ওপার থেকে ভীষণ গম্ভীর গলায় কেউ বলল, “হ্যালো, আমি থানার ইন্সপেক্টর বলছি!”
রঘু ভয়ে গলা কাঁপিয়ে বলল, “সাহেব, আমি গরিব মানুষ। ভুল করে কল করে ফেলেছি। ক্ষমা করে দিন।”
ইন্সপেক্টর বললেন, “কী করছ তুমি ওই ফোন নিয়ে?”
রঘু সরল মনে বলল, “ভিক্ষা চাইছি, সাহেব। আপনার কাছে যদি এক-দুই টাকা থাকে তো গুগল পে করে দিন!”
থানার সবাই এই কথা শুনে হেসে গড়াগড়ি। ইন্সপেক্টর বললেন, “তোমার ভিক্ষার ধরণ একেবারে নতুন, রঘু! ঠিকানা দাও, আমি নিজে এসে তোমার ফোন নিয়ে আসব!”
সেদিন গ্রামে সবাই শুনল, রঘু মোবাইল দিয়ে ভিক্ষা চায়। কেউ তাকে ডাকতে লাগল “ডিজিটাল ভিক্ষুক,” কেউ “গুগল বাবু।” তবে রঘু গর্ব করে বলল, “যুগ পাল্টেছে, ভিক্ষাও আধুনিক হতে হবে!” 😄
