৮০ বছরের দাপুটে ঠাম্মা, মাধবীলতা দেবী, সারা জীবন গ্রামের রান্নাঘর আর পুজোর মন্ডপে কাটিয়েছেন। কিন্তু বয়সের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিনি নতুন কিছু শেখার ইচ্ছা পোষণ করলেন। তাই নাতি রাহুল একদিন তার জন্য ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে দিল। ঠাম্মা খুশি হয়ে বললেন, “এবার বুঝি আমিও তোমাদের মতো আধুনিক হতে পারব!”
প্রথম দিনেই ঠাম্মা ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করলেন—একদিকে তার সেলফি, অন্যদিকে নতুন রান্না করা লুচি আর আলুর দম। ক্যাপশন দিলেন: “আমার হাতের আলু দম পৃথিবীর সেরা। কেউ ট্রাই করতে চাও?”
কিছুক্ষণ পর, গ্রামের বৌদি কমেন্ট করলেন, “দেখতে তো ভালো লাগছে, তবে রেসিপি দিলে ভালো হয়!” ঠাম্মা উত্তরে লিখলেন, “রেসিপি জানতে হলে নিজে এসে খেতে হবে!”
দুই দিনের মধ্যে ঠাম্মার ফলোয়ার সংখ্যা বেড়ে গেল। সবাই তার রেসিপি আর রঙ্গিন সাড়ির প্রশংসা করছে। তবে সমস্যা বাঁধল তৃতীয় দিনে। ঠাম্মা ভুল করে এক পোস্টে লিখলেন: “আমার মাটির হাঁড়ি দিয়ে কেক বানিয়েছি!” সঙ্গে একটা ঝলমলে কেকের ছবি।
নাতি রাহুল তাড়াতাড়ি এসে বলল, “ঠাম্মা, তুমি এটা কোথা থেকে আনলে?” ঠাম্মা গম্ভীর মুখে বললেন, “গুগল থেকে ছবি নিয়েছি। সবাই তো দেখে কী সুন্দর সুন্দর জিনিস বানায়! আমিও দেখালাম!”
রাহুল মাথা ধরে বলল, “এটা চুরি, ঠাম্মা!” ঠাম্মা বললেন, “আহা, আমার ফলোয়ার বাড়লেই হলো! চুরি কিনা তাতে কী?”
সেই দিন থেকে ঠাম্মার নাম হয়ে গেল “ফেকবুক ঠাম্মা”। তবে তিনি দমে যাননি। তার যুক্তি, “আমার বয়স ৮০, যা খুশি করব। আমার ফলোয়াররা কিন্তু আমায় খুব ভালোবাসে!” 😄
